Magura ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২ কোটি টাকার খনন, তবুও ‘মৃত’ বর্ণালী খাল — প্রকল্প প্রশ্নবিদ্ধ, ক্ষুব্ধ মাগুরাবাসী

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 45

নিম্নমানের কাজে ভেস্তে গেল উদ্দেশ্য, জলাবদ্ধতায় সর্বস্বান্ত কৃষক — মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ,

তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া এলাকার বর্ণালী খাল খননে প্রায় ২ কোটি
টাকার বেশি সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও খালটি আজ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের কাজ ও
তদারকির অভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই খালটি পুনরায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পুরো প্রকল্প এখন
প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বর্ণালী খালের কিমি ০.০২৩ থেকে কিমি ৮.৫০০
পর্যন্ত মোট ৮.৪৭৭ কিলোমিটার অংশ খননে ব্যয় হয় ২,০১,১৪,৫৯১.০১ টাকা। কিন্তু কাজ শেষ
হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই খালটি আগের অবস্থায় ফিরে যায় এবং বর্তমানে তা প্রায় সম্পূর্ণভাবে
ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম গাফিলতি ও নিম্নমানের কাজের কারণে সরকারি
অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি। বর্ষা মৌসুমে খালটি পানি ধারণ ও নিষ্কাশনে ব্যর্থ হওয়ায় আশপাশের
ফসলি জমিতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকদের চরম
ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন
মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মোফাজ মোল্লা বলেন, “সরকার কোটি টাকা খরচ করল, কিন্তু আমরা কোনো সুফল
পেলাম না। বরং আগের চেয়েও বেশি দুর্ভোগে পড়েছি।”
আরেক কৃষক ইপিয়ার মোল্লা বলেন, “সঠিকভাবে খনন করা হলে আজ এই সমস্যা হতো না। প্রতি বছর
আমাদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।”
এদিকে এলাকাবাসী বিষয়টি লিখিতভাবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ
আকারে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে খনন কাজে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং তদারকির
ঘাটতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ‘বামনখালী-বর্ণালী উপ-প্রকল্প’-এর
আওতায় ৮.৪৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ণালী খাল পুনঃখননের জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে মোট
২,০১,১৪,৫৯১.০১ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের এই মোট ব্যয়ের মধ্যে মূল
সিভিল কাজের জন্য ১,৯৫,৩৩,০০৫.২৭ টাকা বরাদ্দ রাখা হয় এবং বাকি অর্থ তদারকি, পরিবেশ
ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক খাতে ব্যয় ধরা হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা পানি সম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (পর্যায়-২)-এর অধীনে
বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন, জলজ সম্পদের উন্নয়ন এবং কৃষি ও
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি। তবে বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পের এমন ব্যর্থতায় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান
জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সারোয়ার জাহান সুজন
জানান, কাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, গুণগত মান যাচাই করেই ঠিকাদারের
বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কোথাও খননের প্রয়োজন দেখা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে
পুনঃখননের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, বর্ণালী খালের কিমি ০.০২৩ থেকে কিমি ৮.৫০০ পর্যন্ত অংশ জরুরি ভিত্তিতে
পুনঃখনন করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ না হয়, সে জন্য
কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

২ কোটি টাকার খনন, তবুও ‘মৃত’ বর্ণালী খাল — প্রকল্প প্রশ্নবিদ্ধ, ক্ষুব্ধ মাগুরাবাসী

Update Time : ০৬:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নিম্নমানের কাজে ভেস্তে গেল উদ্দেশ্য, জলাবদ্ধতায় সর্বস্বান্ত কৃষক — মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ,

তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া এলাকার বর্ণালী খাল খননে প্রায় ২ কোটি
টাকার বেশি সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও খালটি আজ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের কাজ ও
তদারকির অভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই খালটি পুনরায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পুরো প্রকল্প এখন
প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বর্ণালী খালের কিমি ০.০২৩ থেকে কিমি ৮.৫০০
পর্যন্ত মোট ৮.৪৭৭ কিলোমিটার অংশ খননে ব্যয় হয় ২,০১,১৪,৫৯১.০১ টাকা। কিন্তু কাজ শেষ
হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই খালটি আগের অবস্থায় ফিরে যায় এবং বর্তমানে তা প্রায় সম্পূর্ণভাবে
ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম গাফিলতি ও নিম্নমানের কাজের কারণে সরকারি
অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি। বর্ষা মৌসুমে খালটি পানি ধারণ ও নিষ্কাশনে ব্যর্থ হওয়ায় আশপাশের
ফসলি জমিতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকদের চরম
ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন
মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক মোফাজ মোল্লা বলেন, “সরকার কোটি টাকা খরচ করল, কিন্তু আমরা কোনো সুফল
পেলাম না। বরং আগের চেয়েও বেশি দুর্ভোগে পড়েছি।”
আরেক কৃষক ইপিয়ার মোল্লা বলেন, “সঠিকভাবে খনন করা হলে আজ এই সমস্যা হতো না। প্রতি বছর
আমাদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।”
এদিকে এলাকাবাসী বিষয়টি লিখিতভাবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ
আকারে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে খনন কাজে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং তদারকির
ঘাটতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ‘বামনখালী-বর্ণালী উপ-প্রকল্প’-এর
আওতায় ৮.৪৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ণালী খাল পুনঃখননের জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে মোট
২,০১,১৪,৫৯১.০১ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের এই মোট ব্যয়ের মধ্যে মূল
সিভিল কাজের জন্য ১,৯৫,৩৩,০০৫.২৭ টাকা বরাদ্দ রাখা হয় এবং বাকি অর্থ তদারকি, পরিবেশ
ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক খাতে ব্যয় ধরা হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা পানি সম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (পর্যায়-২)-এর অধীনে
বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন, জলজ সম্পদের উন্নয়ন এবং কৃষি ও
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি। তবে বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পের এমন ব্যর্থতায় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান
জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সারোয়ার জাহান সুজন
জানান, কাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, গুণগত মান যাচাই করেই ঠিকাদারের
বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কোথাও খননের প্রয়োজন দেখা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে
পুনঃখননের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, বর্ণালী খালের কিমি ০.০২৩ থেকে কিমি ৮.৫০০ পর্যন্ত অংশ জরুরি ভিত্তিতে
পুনঃখনন করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ না হয়, সে জন্য
কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।