ক্ষমতার দাপট দুদিনের বড়াই
- Update Time : ০৫:১৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / 18
রাতের পর দিন আসে, আঁধারের পর আলো ফোটে। অমাবস্যার গভীর অন্ধকার পেরিয়ে যেমন পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হয়, তেমনি পৃথিবীর ইতিহাসেও ক্ষমতার পালাবদল এক অনিবার্য সত্য। কোনো জালিম শাসক কখনো স্থায়ী হয়নি। সময়ের ব্যবধানে তার পতন ঘটেছে এবং নতুন শক্তি তার স্থান দখল করেছে।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অত্যাচারের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আজ হোক বা কাল, জুলুমের অবসান ঘটবেই। রাতের বিদায় যেমন দিনের আগমনের বার্তা দেয়, তেমনি স্বৈরাচারের পতন ন্যায়ভিত্তিক শাসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।
পবিত্র কোরআনে ফেরাউনের কাহিনি সেই সত্যেরই উজ্জ্বল উদাহরণ। ফেরাউন পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছিল, মানুষকে বিভক্ত করেছিল এবং এক শ্রেণিকে দুর্বল করে রেখেছিল। তার এই জুলুম ও অন্যায়ের কারণে তাকে অনর্থ সৃষ্টিকারী বলা হয়েছে। অন্যদিকে যাদের সে দুর্বল করে রেখেছিল, আল্লাহ তাদেরই অনুগ্রহে নেতৃত্ব ও মর্যাদা দান করেন।
সুরা ক্বাসাসে বলা হয়েছে, দুর্বলদের প্রতি অনুগ্রহ করে আল্লাহ তাদের নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছেন এবং ভূমি ও সম্পদের উত্তরাধিকারী করেছেন। অর্থাৎ যাদের দমিয়ে রাখা হয়েছিল, তারাই একসময় ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে।
এ ঘটনা শুধু অতীতের একটি ইতিহাস নয়; বরং চিরন্তন এক নীতি। পৃথিবীতে অনেক সময় শক্তিশালী গোষ্ঠী দুর্বলদের শোষণ করে, বিভক্ত করে রাখে, যাতে তারা ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে। কারণ ঐক্যবদ্ধ জনগণই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে।
যখন অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন পরিস্থিতি বদলে যায়। ক্ষমতা শক্তিশালীদের হাত থেকে সরে দুর্বলদের হাতে চলে আসে। যারা একসময় অন্যদের কান্নার কারণ ছিল, তারাই একদিন কান্নার পাত্রে পরিণত হয়। যারা অন্যকে লাঞ্ছিত করেছিল, তারাই লাঞ্ছনার স্বাদ গ্রহণ করে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “বলুন, হে আল্লাহ! সার্বভৌম শক্তির মালিক! আপনি যাকে চান ক্ষমতা দান করেন, আর যার থেকে চান ক্ষমতা কেড়ে নেন। যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে চান লাঞ্ছিত করেন। সব কল্যাণ আপনারই হাতে। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।” (সুরা আল ইমরান: ২৬)
ক্ষমতা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক আমানত। কেউ ন্যায় ও ইনসাফের সঙ্গে তা পরিচালনা করলে সেটি তার জন্য সম্মানের কারণ হয়। আর কেউ যদি ক্ষমতাকে নিজের অর্জন মনে করে অহংকারে ডুবে যায় এবং অপব্যবহার করে, তবে সেটিই তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফেরাউন শুধু অতীতের একটি চরিত্র নয়; বরং কিয়ামত পর্যন্ত সব জালিম শাসকের জন্য সতর্কবার্তা। তার পরিণতি প্রতিটি ক্ষমতাধর মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—ক্ষমতার দাপট চিরস্থায়ী নয়, তা দুদিনের বড়াই মাত্র। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ইতিহাসের এই শিক্ষা অনেকেই গ্রহণ করে না। ফলে তাদের পতনও ঘটে একই পরিণতিতে।










