Magura ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 17

ঢাকা, ২ মে ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট) : ইসরাইলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে শনিবার দুই ব্যক্তিকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ ঘটনা।

বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজান অনলাইন জানায়, ‘ইয়াঘুব কারিমপুর ও নাসের বেকরজাদেহকে জায়নিস্ট শাসনের পক্ষে গোয়েন্দা সহযোগিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’ তবে তাদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

খবর এএফপি’র।

ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়, কারিমপুরকে ‘মোহারেবেহ’ বা সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক স্থাপনার ভিডিওচিত্র ও ছবি তুলে মোসাদের এক কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছিলেন।

বেকরজাদেহ সম্পর্কে মিজান জানায়, তিনি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ‘ধর্মীয় ও প্রাদেশিক ব্যক্তিত্বদের’ পাশাপাশি নাতাঞ্জ এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। নাতাঞ্জে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে। তবে তার এই কর্মকাণ্ড যুদ্ধকালীন সময়ে হয়েছিল কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

জানুয়ারির গণবিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই বিক্ষোভে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠন মুজাহিদিন-ই-খালকসহ বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীর প্ররোচনা ছিল।

বৃহস্পতিবার ইরান জানায়, ইসফাহান প্রদেশে যুদ্ধপূর্ব বিক্ষোভ চলাকালে ‘পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত সাসান আজাদভার নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ চরমে ওঠে।

ইরানের কর্তৃপক্ষ বলছে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে তা ‘বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গায়’ পরিণত হয়, যেখানে হত্যা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

Please Share This Post in Your Social Media

ইসরাইলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

Update Time : ০৫:২৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ঢাকা, ২ মে ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট) : ইসরাইলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে শনিবার দুই ব্যক্তিকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ ঘটনা।

বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজান অনলাইন জানায়, ‘ইয়াঘুব কারিমপুর ও নাসের বেকরজাদেহকে জায়নিস্ট শাসনের পক্ষে গোয়েন্দা সহযোগিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’ তবে তাদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

খবর এএফপি’র।

ওয়েবসাইটে আরও বলা হয়, কারিমপুরকে ‘মোহারেবেহ’ বা সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক স্থাপনার ভিডিওচিত্র ও ছবি তুলে মোসাদের এক কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছিলেন।

বেকরজাদেহ সম্পর্কে মিজান জানায়, তিনি ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ‘ধর্মীয় ও প্রাদেশিক ব্যক্তিত্বদের’ পাশাপাশি নাতাঞ্জ এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। নাতাঞ্জে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে। তবে তার এই কর্মকাণ্ড যুদ্ধকালীন সময়ে হয়েছিল কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

জানুয়ারির গণবিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই বিক্ষোভে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠন মুজাহিদিন-ই-খালকসহ বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীর প্ররোচনা ছিল।

বৃহস্পতিবার ইরান জানায়, ইসফাহান প্রদেশে যুদ্ধপূর্ব বিক্ষোভ চলাকালে ‘পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত সাসান আজাদভার নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ চরমে ওঠে।

ইরানের কর্তৃপক্ষ বলছে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে তা ‘বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গায়’ পরিণত হয়, যেখানে হত্যা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।