Magura ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কোয়ান্টাম কম্পিউটার হুমকি বাড়ছে, ঝুঁকিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা

দিনে দিনে বাড়ছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার হুমকি

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 17

ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে?’— রবীন্দ্রনাথের সেই চিরচেনা গানের পঙক্তি আজ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মনে নতুন এক আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কারণ, যে ডিজিটাল তালা দিয়ে বিশ্বজুড়ে গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখা হয়, তা ভবিষ্যতে অচল হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত উন্নত হতে থাকা কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রযুক্তি একসময় বর্তমানের শক্তিশালী এনক্রিপশন ব্যবস্থাও সহজে ভেঙে ফেলতে সক্ষম হবে। বিজ্ঞানীরা এই সম্ভাব্য দিনটির নাম দিয়েছেন ‘কিউ-ডে’

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার কী?

বর্তমানের স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা সুপার কম্পিউটার কাজ করে বিট দিয়ে, যা হয় ০ অথবা ১। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার কাজ করে কুবিট দিয়ে, যা একইসঙ্গে ০ এবং ১—দুই অবস্থায় থাকতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় সুপারপজিশন

ফলে সাধারণ কম্পিউটারকে যে জটিল সমস্যা সমাধানে হাজার বছর সময় লাগতে পারে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার তা কয়েক সেকেন্ডেই করতে সক্ষম হতে পারে।

কেন এটি হুমকি?

বর্তমানে ব্যাংকিং, রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, অনলাইন লেনদেনসহ প্রায় সব ডিজিটাল নিরাপত্তা নির্ভর করে জটিল এনক্রিপশন পদ্ধতির ওপর। সাধারণ কম্পিউটার দিয়ে এসব কোড ভাঙা প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু গবেষকদের মতে, চলতি দশকের শেষ দিকে এমন শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি হতে পারে, যা এসব এনক্রিপশন সহজেই ভেঙে ফেলবে। অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ২০২৯ সালকে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে দেখছেন।

‘হার্ভেস্ট নাও, ডিক্রিপ্ট লেটার’ আতঙ্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো “Harvest Now, Decrypt Later” কৌশল। অর্থাৎ, এখনই গোপন তথ্য চুরি করে সংরক্ষণ করা, পরে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এলে তা ডিক্রিপ্ট করা।

এতে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি, ব্যাংক তথ্য, স্বাস্থ্য খাতের ডেটা এমনকি সামরিক গোপন কোডও ভবিষ্যতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কী করতে হবে এখন?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন থেকেই পোস্ট-কোয়ান্টাম এনক্রিপশন ব্যবস্থায় যেতে হবে। নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি না করলে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের সাইবার সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার যেমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিপ্লব আনতে পারে, তেমনি প্রস্তুতি না থাকলে এটি ডিজিটাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকিতেও পরিণত হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

কোয়ান্টাম কম্পিউটার হুমকি বাড়ছে, ঝুঁকিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা

দিনে দিনে বাড়ছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার হুমকি

Update Time : ০৬:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে?’— রবীন্দ্রনাথের সেই চিরচেনা গানের পঙক্তি আজ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মনে নতুন এক আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কারণ, যে ডিজিটাল তালা দিয়ে বিশ্বজুড়ে গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখা হয়, তা ভবিষ্যতে অচল হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত উন্নত হতে থাকা কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রযুক্তি একসময় বর্তমানের শক্তিশালী এনক্রিপশন ব্যবস্থাও সহজে ভেঙে ফেলতে সক্ষম হবে। বিজ্ঞানীরা এই সম্ভাব্য দিনটির নাম দিয়েছেন ‘কিউ-ডে’

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার কী?

বর্তমানের স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা সুপার কম্পিউটার কাজ করে বিট দিয়ে, যা হয় ০ অথবা ১। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার কাজ করে কুবিট দিয়ে, যা একইসঙ্গে ০ এবং ১—দুই অবস্থায় থাকতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় সুপারপজিশন

ফলে সাধারণ কম্পিউটারকে যে জটিল সমস্যা সমাধানে হাজার বছর সময় লাগতে পারে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার তা কয়েক সেকেন্ডেই করতে সক্ষম হতে পারে।

কেন এটি হুমকি?

বর্তমানে ব্যাংকিং, রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, অনলাইন লেনদেনসহ প্রায় সব ডিজিটাল নিরাপত্তা নির্ভর করে জটিল এনক্রিপশন পদ্ধতির ওপর। সাধারণ কম্পিউটার দিয়ে এসব কোড ভাঙা প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু গবেষকদের মতে, চলতি দশকের শেষ দিকে এমন শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি হতে পারে, যা এসব এনক্রিপশন সহজেই ভেঙে ফেলবে। অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ২০২৯ সালকে গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে দেখছেন।

‘হার্ভেস্ট নাও, ডিক্রিপ্ট লেটার’ আতঙ্ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো “Harvest Now, Decrypt Later” কৌশল। অর্থাৎ, এখনই গোপন তথ্য চুরি করে সংরক্ষণ করা, পরে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এলে তা ডিক্রিপ্ট করা।

এতে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি, ব্যাংক তথ্য, স্বাস্থ্য খাতের ডেটা এমনকি সামরিক গোপন কোডও ভবিষ্যতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কী করতে হবে এখন?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন থেকেই পোস্ট-কোয়ান্টাম এনক্রিপশন ব্যবস্থায় যেতে হবে। নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি না করলে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের সাইবার সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার যেমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিপ্লব আনতে পারে, তেমনি প্রস্তুতি না থাকলে এটি ডিজিটাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় হুমকিতেও পরিণত হতে পারে।