মাটির ক্ষুদ্র জীবাণুর ম্যাজিক, কীভাবে মেঘ থেকে নামে বৃষ্টি জানালেন বিজ্ঞানীরা
মাটির অণুজীবের বিস্ময়কর শক্তি, মেঘ ডেকে আনে বৃষ্টির ফোঁটা
- Update Time : ০৬:২৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / 19
মেঘ থেকে বৃষ্টি নামার পেছনে শুধু আবহাওয়া নয়, মাটির গভীরে থাকা ক্ষুদ্র ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ারও বড় ভূমিকা রয়েছে—এমনই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিক-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে থাকা কিছু অণুজীব এমন বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে, যা বায়ুমণ্ডলে উঠে গিয়ে বরফ তৈরির সূচনা ঘটায়। পরে সেই বরফকণাই গলে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে।
গবেষকদের মতে, বিশেষ করে ‘মরটিরিয়েলা’ প্রজাতির ছত্রাক এ কাজে বেশ দক্ষ। তারা শরীর থেকে যে প্রোটিন ছাড়ে, তা বাতাসে ভেসে মেঘে পৌঁছে পানিকে দ্রুত বরফে রূপ দিতে সাহায্য করে।
মেঘের ভেতরে কীভাবে তৈরি হয় বৃষ্টি
সাধারণভাবে পানি শূন্য ডিগ্রিতে বরফে পরিণত হলেও মেঘের ভেতরে অনেক সময় মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে। এই অতিশীতল পানিকে বরফে পরিণত করতে প্রয়োজন হয় একটি সূচনাবিন্দু বা ‘বীজ’।
ধুলিকণা বা লবণের কণা এ কাজ কিছুটা করতে পারলেও, বিজ্ঞানীরা বলছেন অণুজীবের প্রোটিন অনেক বেশি কার্যকর।
এর আগে ‘সিউডোমোনাস সিরিঞ্জি’ নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কথা জানা ছিল, যা মাত্র মাইনাস ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই পানি জমাতে সক্ষম।
ছত্রাক আরও বেশি দক্ষ
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ছত্রাক ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও বেশি কার্যকরভাবে এই কাজ করতে পারে। কারণ তারা প্রোটিন বাইরে ছড়িয়ে দেয়, যা সহজেই বাতাসে ভেসে উপরে উঠে যায়।
ফলে তুলনামূলক উষ্ণ মেঘেও তারা বরফকণা তৈরি করে বৃষ্টিপাত বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
বিবর্তনের চমক
গবেষকরা বলছেন, লাখ লাখ বছর আগে কিছু ছত্রাক ব্যাকটেরিয়ার কাছ থেকে এই জিনগত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। বিজ্ঞানীরা একে বলেন হরাইজন্টাল জিন ট্রান্সফার।
এর ফলে ছত্রাক প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে এবং বৃষ্টির মাধ্যমে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়।
পরিবেশের জন্য বড় বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন উজাড় হলে শুধু গাছই হারায় না, বৃষ্টিপাতের প্রাকৃতিক চক্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ গাছপালা ও মাটির অণুজীব একসঙ্গে স্থানীয় আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে কিছু দেশে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা হলেও, এই প্রাকৃতিক প্রোটিন ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব বৃষ্টি তৈরির প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
গবেষকদের আশা, এ আবিষ্কার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খরাপ্রবণ এলাকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।










