কিশোরগঞ্জে বন্যার পানিতে তলিয়েছে সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর ধানক্ষেত
- Update Time : ০৭:০০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 16
কিশোরগঞ্জ, ৪ মে ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট): টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জে নতুন করে আরও আড়াই হাজার হেক্টরের বেশি বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর। ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ৪৯ হাজার কৃষক।
সোমবার বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অব্যাহত বৃষ্টি ও উজানের পানিতে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক পাকা ধান কাটতে পারছেন না, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সোমবার দুপুরের পর রোদ উঠায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে।
জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যে জানা যায়, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে ৩.২৬ মিটারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৯৫ মিটার (১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি) এবং অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৫৮ মিটার (১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি) হয়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনার পানি কমে ১.৭২ মিটারে নেমেছে।
পাউবো জানিয়েছে, সব নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ধান তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অনেকেই ধান শুকাতে না পেরে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে।










