রাজশাহীতে বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু, ভালো ফলনে হাসি কৃষকের মুখে
- Update Time : ০৫:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
- / 12
ওমর ফারুক
রাজশাহী, ৫ মে ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট): রাজশাহীর বিস্তৃত বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন সোনালি ধানের মৌসুম। তীব্র গরম উপেক্ষা করে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম এখন পুরোদমে চলছে এবং পুরো মে মাসজুড়েই চলবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ও মহানগর এলাকার বোয়ালিয়া ও মতিহার থানায় মোট ৬৮ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফসলের অবস্থা সন্তোষজনক। এ বছর জেলায় ৩,২৭,৫৪৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক হিসাবে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪.৭০ মেট্রিক টন। কৃষকরা জমির ধরন অনুযায়ী প্রায় ৩৫টি ভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন, যার মধ্যে উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান ও আধুনিক হাইব্রিড জাতের প্রাধান্য বেশি।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন জাতের ধান চাষের ফলে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমেছে এবং ধান ধাপে ধাপে পাকার কারণে শ্রম ব্যবস্থাপনাও সহজ হচ্ছে।
এ পর্যন্ত মোট আবাদকৃত জমির প্রায় ১০ শতাংশ ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে কাটা ধানের ফলন মোটামুটি হলেও মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফলন আরও ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই কৃষকরা মাঠে নেমে পড়ছেন। কোথাও কাস্তে দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে, আবার কোথাও কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে দ্রুত কাজ চলছে। ধান কাটা শেষে শুকানো ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবারের সদস্যরা।
সাইমন নামের এক কৃষক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব ধান ভালোভাবে ঘরে তুলতে পারবেন এবং ফলনও সন্তোষজনক হচ্ছে।
পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষকরাও জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের আবহাওয়া ভালো থাকায় তারা স্বস্তিতে আছেন। বড় কোনো ঝড়-বৃষ্টি না হলে নির্বিঘ্নে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন।
জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে ধান কাটা তদারকি ও কৃষকদের পরামর্শ দিতে তারা কাজ করছেন। মে মাসের শেষ নাগাদ অধিকাংশ ধান ঘরে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বলেন, গত সপ্তাহ থেকেই ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ফলন ভালোই হচ্ছে। মাসজুড়ে এই কার্যক্রম চলবে এবং বাকি ধানেও আরও ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।










