সুইজগেট নয়, ‘দুর্ভোগের গেট’—মাগুরায় কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে কৃষকের ক্ষোভ
- Update Time : ০৭:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / 25
বর্ষায় ফসল ডুবি, খরায় পানির সংকট—কৃষকের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি
মাগুরা সদর উপজেলার আমুড়িয়া এলাকায় বর্নালী খালের ওপর নির্মিত আধুনিক পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পটি বাস্তবে কৃষকদের কোনো উপকারে আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে; বরং এটি এখন তাদের জন্য ‘দুর্ভোগের গেট’ হিসেবে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, মাগুরা পওর বিভাগের আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সমন্বিত পানি সম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়)-এর বামনখালী বর্নালী উপ-প্রকল্পের অংশ হিসেবে আমুড়িয়া পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির প্যাকেজ নম্বর মাগ-বি বি-ডব্লিউ সি এস-১-ডব্লিউ ০১-৩৭ এবং ই-জিপি আইডি ৪৯৯৫৫৬। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৭৬ টাকা ৩১ পয়সা এবং চুক্তি মূল্য দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৪ টাকা ৯৫ পয়সা। ২০২১ সালের ৩ মার্চ কার্যাদেশ প্রদান করা হয় এবং পরদিন কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালের ৩ মার্চ সমাপ্তির কথা ছিল। কাজটি বাস্তবায়ন করে কুষ্টিয়ার ‘ন্যাচারাল’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে নির্মিত তিন ভেন্টবিশিষ্ট এই রেগুলেটরটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে পানি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনের জটিলতা। তাদের দাবি, এই সুইজগেট দিয়ে কোনো উপকার তো হয়নি-ই, বরং প্রতিবছর অর্ধকোটি টাকারও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
আমুড়িয়ার কৃষক মোফাজ মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্নালী খাল দিয়ে আমুড়িয়া, বাহারবাগ, শ্যামপুর, দুর্গাপুর, গোপালগ্রামসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতো। কিন্তু বর্তমানে গেটের কারণে পানি ঠিকমতো বের হতে পারছে না। এতে বর্ষাকালে উজানের মাঠ পানিতে ডুবে ফসল নষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আগে নৌকা ও প্লাস্টিক ব্যবহার করে সহজেই ধান ও পাট বাড়িতে আনা যেত। কিন্তু এখন সেই সুযোগ না থাকায় পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই এলাকার কৃষক মশিয়ার রহমান বলেন, এই সুইজগেট তাদের কোনো কাজে আসেনি; বরং এটি এখন বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছে, আবার শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একাধিক কৃষক জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্প বাস্তবে কোনো সুফল বয়ে আনেনি। বরং তাদের ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা কাঠামোটি অপসারণের দাবি তুলছেন।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ। তবে স্থানীয়দের মতে, বাস্তবে এসব লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
তবে এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সারোয়ার জাহান সুজন বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ সঠিক নয়।










