Magura ০৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় দফা দাবিতে মাগুরায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রতিবাদী মানববন্ধন

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • Update Time : ০৫:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / 17

ছবি- মাগুরায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের  মানববন্ধন

দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শ্রম শোষণ ও পেশাগত অপমানের প্রতিবাদে মাগুরার মহম্মদপুরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা। পেশার মর্যাদা রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে সোমবার (১১ মে ২০২৬) সকাল ৯টায় মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ফারিয়ার উদ্যোগে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের কঠোর পরিশ্রমে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করানো হলেও অতিরিক্ত সময়ের কোনো পারিশ্রমিক, চাকরির নিরাপত্তা কিংবা সম্মানজনক বেতন কাঠামো নেই।

বক্তারা বলেন, “মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন না করে শ্রমিকের মতো খাটিয়ে মালিকপক্ষ মুনাফা লুটছে। বছরের পর বছর চাকরি করেও আমরা গ্র্যাচুইটি, বেতন বৃদ্ধি ও মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বৈষম্য আর মেনে নেওয়া হবে না।”

মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার পর অতিরিক্ত সময় কাজ করালে বাধ্যতামূলক ওভারটাইম ভাতা প্রদান করতে হবে।

২. চাকরির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে গ্র্যাচুইটির শতকরা হার বাড়াতে হবে।

৩. বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর টি এ/ডি এ বিল পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

৪. মোট বেতনের অন্তত ৬০ শতাংশ বেসিক স্যালারি নির্ধারণ করতে হবে।

৫. চাকরির পাঁচ বছর পূর্ণ হলে মোটরসাইকেল ও মোবাইল বাবদ কোনো অর্থ কাটা যাবে না।

৬. চাকরিচ্যুত রিপ্রেজেন্টেটিভদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় বক্তব্য দেন মহম্মদপুর উপজেলা ফারিয়ার উপদেষ্টা মো. নজরুল ইসলাম (একমি), সহ-সভাপতি মো. রঞ্জু মৃধা (রেনেটা) এবং সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত সচল রাখতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারাই আজ চরম অবহেলা, বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার শিকার। তারা বলেন, “আমাদের শ্রমে ওষুধ কোম্পানিগুলো দাঁড়িয়ে আছে, অথচ আমাদেরকেই অপমানিত করা হচ্ছে।”

সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের “দালাল” আখ্যা দেওয়ার ঘটনায় আন্দোলনকারীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “আমরা কোনো দালাল নই। আমরা আছি বলেই দেশের মানুষ সময়মতো ওষুধ পায় ও চিকিৎসাসেবা পায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পরও আমাদের সম্মানহানি করা হচ্ছে। এই অপমান পুরো পেশাজীবী সমাজ মেনে নেবে না।”

বক্তারা সরকার ও ওষুধ কোম্পানির মালিকপক্ষের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে কর্মবিরতি, ওষুধ সরবরাহ বন্ধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

ছয় দফা দাবিতে মাগুরায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রতিবাদী মানববন্ধন

Update Time : ০৫:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শ্রম শোষণ ও পেশাগত অপমানের প্রতিবাদে মাগুরার মহম্মদপুরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা। পেশার মর্যাদা রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে সোমবার (১১ মে ২০২৬) সকাল ৯টায় মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ফারিয়ার উদ্যোগে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের কঠোর পরিশ্রমে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করানো হলেও অতিরিক্ত সময়ের কোনো পারিশ্রমিক, চাকরির নিরাপত্তা কিংবা সম্মানজনক বেতন কাঠামো নেই।

বক্তারা বলেন, “মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন না করে শ্রমিকের মতো খাটিয়ে মালিকপক্ষ মুনাফা লুটছে। বছরের পর বছর চাকরি করেও আমরা গ্র্যাচুইটি, বেতন বৃদ্ধি ও মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বৈষম্য আর মেনে নেওয়া হবে না।”

মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার পর অতিরিক্ত সময় কাজ করালে বাধ্যতামূলক ওভারটাইম ভাতা প্রদান করতে হবে।

২. চাকরির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে গ্র্যাচুইটির শতকরা হার বাড়াতে হবে।

৩. বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর টি এ/ডি এ বিল পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

৪. মোট বেতনের অন্তত ৬০ শতাংশ বেসিক স্যালারি নির্ধারণ করতে হবে।

৫. চাকরির পাঁচ বছর পূর্ণ হলে মোটরসাইকেল ও মোবাইল বাবদ কোনো অর্থ কাটা যাবে না।

৬. চাকরিচ্যুত রিপ্রেজেন্টেটিভদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় বক্তব্য দেন মহম্মদপুর উপজেলা ফারিয়ার উপদেষ্টা মো. নজরুল ইসলাম (একমি), সহ-সভাপতি মো. রঞ্জু মৃধা (রেনেটা) এবং সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত সচল রাখতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারাই আজ চরম অবহেলা, বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার শিকার। তারা বলেন, “আমাদের শ্রমে ওষুধ কোম্পানিগুলো দাঁড়িয়ে আছে, অথচ আমাদেরকেই অপমানিত করা হচ্ছে।”

সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের “দালাল” আখ্যা দেওয়ার ঘটনায় আন্দোলনকারীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “আমরা কোনো দালাল নই। আমরা আছি বলেই দেশের মানুষ সময়মতো ওষুধ পায় ও চিকিৎসাসেবা পায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পরও আমাদের সম্মানহানি করা হচ্ছে। এই অপমান পুরো পেশাজীবী সমাজ মেনে নেবে না।”

বক্তারা সরকার ও ওষুধ কোম্পানির মালিকপক্ষের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে কর্মবিরতি, ওষুধ সরবরাহ বন্ধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।