Magura ১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালী ব্যাংকের সাবেক সিবিএ নেতা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকির অভিযোগ, মতিঝিল থানায় জোড়া অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • Update Time : ১১:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 28

সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের সাবেক সিবিএ সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত জুনিয়র অফিসার মোঃ জাকির হোসেন মোস্তফার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং পাওনাদারদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী ও এক সাধারণ নাগরিক তাঁদের পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে রাজধানীর মতিঝিল থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক সিবিএ-র শীর্ষ পদ আঁকড়ে রাখা এবং বর্তমান সিবিএ নেতাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

প্রথম অভিযোগটি দায়ের করেছেন মতিঝিল এলাকার ব্যবসায়ী এবং ব্যাংক সিকিউরিটিজ লি.-এর প্রতিনিধি আব্দুল মুহিত। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে তাঁর ব্যবসায়িক সমস্যা দেখা দিলে ২০২৫ সালে সোনালী ব্যাংকের সিবিএ সভাপতি জাকির হোসেন মোস্তফার সাথে আলম চান নামের এক ব্যক্তি তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। জাকির হোসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতার মাধ্যমে তাঁর সমস্ত সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দুই কিস্তিতে মোট ৪০ লক্ষ (চল্লিশ লক্ষ) টাকা নগদ গ্রহণ করেন। টাকা নেওয়ার সময় জাকির হোসেনের অফিসে মনিরুল হক ও গিয়াসউদ্দিন নামে দুই ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে কাজ করতে ব্যর্থ হলে আব্দুল মুহিত তাঁর টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে জাকির হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা মুহিতকে মতিঝিল থেকে মেরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখান। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে আব্দুল মুহিত তাঁর কার্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন উল্লেখ করে গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে মতিঝিল থানায় একটি লিখিত আবেদন জানান।

এদিকে, গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে একই থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছেন গাজীপুর সদরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকার বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র সাহা (৫২)। তাঁর অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে অভিযুক্ত মোঃ জাকির হোসেন (৬০) (পিতা- মৃত ইয়ার আহমেদ মজুমদার, স্থায়ী ঠিকানা: ফুলগাজী, ফেনী) তাঁর কাছ থেকে ৫ লক্ষ (পাঁচ লক্ষ) টাকা ধার হিসেবে নেন এবং তিন মাসের মধ্যে তা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর যাবত টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকেন। গত ৫ মে ২০২৬ তারিখে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সুভাষ চন্দ্র সাহা মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের ৮ম তলায় সিবিএ অফিসে জাকির হোসেনের নিজস্ব চেম্বারে গিয়ে টাকা দাবি করলে জাকির হোসেন উত্তেজিত হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (বডিগার্ড) গিয়াস উদ্দিনকে দিয়ে সুভাষ চন্দ্রকে অফিস থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়।

সোনালী ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত জাকির হোসেন প্রায় দেড় বছর আগেই চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার পর সিবিএ-র কোনো পদে থাকার সুযোগ না থাকলেও তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এখনো সোনালী ব্যাংকের সিবিএ সভাপতি পদটি জোরপূর্বক আঁকড়ে ধরে আছেন। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ব্যাংকে যারা রানিং সিবিএ রাজনীতি করছেন, তাদেরকেও বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে এই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সোনালী ব্যাংকের সাবেক সিবিএ নেতা জাকির হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মতিঝিল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এই প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকির বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

সোনালী ব্যাংকের সাবেক সিবিএ নেতা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকির অভিযোগ, মতিঝিল থানায় জোড়া অভিযোগ

Update Time : ১১:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের সাবেক সিবিএ সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত জুনিয়র অফিসার মোঃ জাকির হোসেন মোস্তফার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং পাওনাদারদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী ও এক সাধারণ নাগরিক তাঁদের পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে রাজধানীর মতিঝিল থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক সিবিএ-র শীর্ষ পদ আঁকড়ে রাখা এবং বর্তমান সিবিএ নেতাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

প্রথম অভিযোগটি দায়ের করেছেন মতিঝিল এলাকার ব্যবসায়ী এবং ব্যাংক সিকিউরিটিজ লি.-এর প্রতিনিধি আব্দুল মুহিত। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে তাঁর ব্যবসায়িক সমস্যা দেখা দিলে ২০২৫ সালে সোনালী ব্যাংকের সিবিএ সভাপতি জাকির হোসেন মোস্তফার সাথে আলম চান নামের এক ব্যক্তি তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। জাকির হোসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতার মাধ্যমে তাঁর সমস্ত সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দুই কিস্তিতে মোট ৪০ লক্ষ (চল্লিশ লক্ষ) টাকা নগদ গ্রহণ করেন। টাকা নেওয়ার সময় জাকির হোসেনের অফিসে মনিরুল হক ও গিয়াসউদ্দিন নামে দুই ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে কাজ করতে ব্যর্থ হলে আব্দুল মুহিত তাঁর টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে জাকির হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা মুহিতকে মতিঝিল থেকে মেরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং বেশি বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখান। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে আব্দুল মুহিত তাঁর কার্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন উল্লেখ করে গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে মতিঝিল থানায় একটি লিখিত আবেদন জানান।

এদিকে, গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে একই থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছেন গাজীপুর সদরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকার বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র সাহা (৫২)। তাঁর অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে অভিযুক্ত মোঃ জাকির হোসেন (৬০) (পিতা- মৃত ইয়ার আহমেদ মজুমদার, স্থায়ী ঠিকানা: ফুলগাজী, ফেনী) তাঁর কাছ থেকে ৫ লক্ষ (পাঁচ লক্ষ) টাকা ধার হিসেবে নেন এবং তিন মাসের মধ্যে তা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর যাবত টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকেন। গত ৫ মে ২০২৬ তারিখে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সুভাষ চন্দ্র সাহা মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের ৮ম তলায় সিবিএ অফিসে জাকির হোসেনের নিজস্ব চেম্বারে গিয়ে টাকা দাবি করলে জাকির হোসেন উত্তেজিত হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (বডিগার্ড) গিয়াস উদ্দিনকে দিয়ে সুভাষ চন্দ্রকে অফিস থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়।

সোনালী ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত জাকির হোসেন প্রায় দেড় বছর আগেই চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার পর সিবিএ-র কোনো পদে থাকার সুযোগ না থাকলেও তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এখনো সোনালী ব্যাংকের সিবিএ সভাপতি পদটি জোরপূর্বক আঁকড়ে ধরে আছেন। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ব্যাংকে যারা রানিং সিবিএ রাজনীতি করছেন, তাদেরকেও বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে এই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সোনালী ব্যাংকের সাবেক সিবিএ নেতা জাকির হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মতিঝিল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এই প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকির বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।