Magura ০৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি কর্মকর্তাদের টার্গেটকৃত হত্যাকাণ্ডে ‘স্তম্ভিত’ জাতিসংঘ তদন্ত মিশন

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / 205

ইরানি কর্মকর্তাদের টার্গেটকৃত হত্যাকাণ্ডে ‘স্তম্ভিত’ জাতিসংঘ তদন্ত মিশন

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট): ইরানে নিয়োজিত জাতিসংঘ-নিযুক্ত তদন্তকারীরা দেশটির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চালানো প্রাণঘাতী হামলায় গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উপায় হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন বুধবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় ইরানের কয়েক ডজন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা ‘স্তম্ভিত’ বলে উল্লেখ করেছে।

তদন্ত মিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, “যদি ধরে নেওয়া হয় যে নিহতদের কেউ কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন বা আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ী ছিলেন, তবুও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিচারবহির্ভূতভাবে জীবন হরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য পথ হতে পারে না।” তদন্তকারীরা জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের বিধান কোনো রাষ্ট্রের একক পদক্ষেপের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে না।

মিশন আরও জানায়, ইরানের জনগণ বর্তমানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। একদিকে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের আশঙ্কা, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি সরকার। এই সংকটের মাঝে তেহরান কর্তৃক ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তদন্তকারীরা বলেন, এর ফলে ইরানিরা বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ হারিয়েছেন।

তিন সদস্যের এই বিশেষ মিশনের দায়িত্ব হলো ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। বিশেষ করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া নতুন গণবিক্ষোভে আটক প্রায় ‘দশ হাজারেরও বেশি’ বন্দির নিরাপত্তা নিয়ে তারা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৩ জুন তেহরানের ইভিন কারাগারে ইসরায়েলি সামরিক হামলার মতো ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তদন্ত সংস্থাটি যুদ্ধের ফলে বেসামরিক হতাহতের প্রমাণ সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে যুদ্ধ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ইরানি কর্মকর্তাদের টার্গেটকৃত হত্যাকাণ্ডে ‘স্তম্ভিত’ জাতিসংঘ তদন্ত মিশন

Update Time : ০৮:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট): ইরানে নিয়োজিত জাতিসংঘ-নিযুক্ত তদন্তকারীরা দেশটির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চালানো প্রাণঘাতী হামলায় গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উপায় হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন বুধবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় ইরানের কয়েক ডজন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা ‘স্তম্ভিত’ বলে উল্লেখ করেছে।

তদন্ত মিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, “যদি ধরে নেওয়া হয় যে নিহতদের কেউ কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন বা আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ী ছিলেন, তবুও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিচারবহির্ভূতভাবে জীবন হরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য পথ হতে পারে না।” তদন্তকারীরা জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের বিধান কোনো রাষ্ট্রের একক পদক্ষেপের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে না।

মিশন আরও জানায়, ইরানের জনগণ বর্তমানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। একদিকে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের আশঙ্কা, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি সরকার। এই সংকটের মাঝে তেহরান কর্তৃক ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তদন্তকারীরা বলেন, এর ফলে ইরানিরা বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ হারিয়েছেন।

তিন সদস্যের এই বিশেষ মিশনের দায়িত্ব হলো ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। বিশেষ করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া নতুন গণবিক্ষোভে আটক প্রায় ‘দশ হাজারেরও বেশি’ বন্দির নিরাপত্তা নিয়ে তারা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৩ জুন তেহরানের ইভিন কারাগারে ইসরায়েলি সামরিক হামলার মতো ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তদন্ত সংস্থাটি যুদ্ধের ফলে বেসামরিক হতাহতের প্রমাণ সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে যুদ্ধ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছে।