Magura ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য সরকারের: তিতুমীর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫৪৫ Time View

আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট): ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং দেশকে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলের দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে এই সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন পর্যালোচনা: নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সঞ্চিত বিপুল ঋণের বোঝা দেশের ওপর চেপে বসেছে এবং পূর্ববর্তী ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলটি টেকসই ছিল না।

ড. তিতুমীর জানান, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলে রূপান্তরের কাজ করছে, যা দেশীয় ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)-এর মাধ্যমে শক্তিশালী হবে। এই রূপান্তরের প্রধান স্তম্ভ হলো অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি করা। বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রথমে ২ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির মধ্যবর্তী ধাপ অনুসরণ করা হবে।

উপদেষ্টা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কর সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং বর্তমান রাজস্ব কাঠামোর জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে বলেন, এটি প্রভাব কেনাবেচার বাজারে পরিণত হয়েছে। সরকার এখন পরিচয়ভিত্তিক প্রণোদনার পরিবর্তে বাস্তব ফলাফল বা কার্যসম্পাদনভিত্তিক (এক্স-পোস্ট) ভর্তুকি ব্যবস্থায় যেতে চায়।

রাজস্ব আদায়ে কেবল বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)-এর ওপর নির্ভরশীল না থেকে সব ইউনিটে সমানভাবে জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এছাড়া অপচয় রোধ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কমাতে তিনটি কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণের কথা জানান ড. তিতুমীর। সবশেষে তিনি জনসাধারণের সেবা নিশ্চিত করতে যথাযথ কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার এবং উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

Tag :
About Author Information

২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য সরকারের: তিতুমীর

Update Time : ০৮:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট): ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং দেশকে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলের দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে এই সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন পর্যালোচনা: নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সঞ্চিত বিপুল ঋণের বোঝা দেশের ওপর চেপে বসেছে এবং পূর্ববর্তী ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলটি টেকসই ছিল না।

ড. তিতুমীর জানান, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলে রূপান্তরের কাজ করছে, যা দেশীয় ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)-এর মাধ্যমে শক্তিশালী হবে। এই রূপান্তরের প্রধান স্তম্ভ হলো অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি করা। বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রথমে ২ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির মধ্যবর্তী ধাপ অনুসরণ করা হবে।

উপদেষ্টা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কর সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং বর্তমান রাজস্ব কাঠামোর জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে বলেন, এটি প্রভাব কেনাবেচার বাজারে পরিণত হয়েছে। সরকার এখন পরিচয়ভিত্তিক প্রণোদনার পরিবর্তে বাস্তব ফলাফল বা কার্যসম্পাদনভিত্তিক (এক্স-পোস্ট) ভর্তুকি ব্যবস্থায় যেতে চায়।

রাজস্ব আদায়ে কেবল বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)-এর ওপর নির্ভরশীল না থেকে সব ইউনিটে সমানভাবে জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এছাড়া অপচয় রোধ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কমাতে তিনটি কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণের কথা জানান ড. তিতুমীর। সবশেষে তিনি জনসাধারণের সেবা নিশ্চিত করতে যথাযথ কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার এবং উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।