Magura ০৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা রোধে সরকারের সমীক্ষা উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ পাবেন ২০ হাজার শিক্ষার্থী

কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা রোধে সমীক্ষার উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ পাবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 18

ঢাকা, ১ মে, ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট): দেশে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে এবং তাদের মানসিক ও আবেগীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সমীক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর তত্ত্বাবধানে বেসরকারি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’ এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়নে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কারিগরি নির্দেশনায় পরিচালিত ‘লাইভ লাইফ’ কর্মসূচির আওতায় যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ—এই চার জেলায় প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মাউশি জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহ সদর ও শৈলকুপা, যশোর সদর ও ঝিকরগাছা এবং সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলার নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সমীক্ষা চালানো হবে। এতে সফলতা পেলে বাস্তবতা বিবেচনায় কর্মসূচির পরিসর বাড়ানো হবে।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা প্রবণতার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “এই সমীক্ষার মাধ্যমে আমরা একটি বৈজ্ঞানিক উপাত্তভিত্তিক সমাধান খুঁজছি, যা ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি স্থায়ী মডেল হিসেবে কাজ করবে।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কর্মসূচির আওতায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে সরাসরি সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আত্মহত্যার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র তৈরি করা হবে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, “অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের মানসিক অস্থিরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে এটি দেশজুড়ে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০ হাজার শিক্ষার্থী ও ২৮৮ শিক্ষক পাবেন প্রশিক্ষণ

মাউশি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে নির্বাচিত চার জেলার ২০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ জন করে মোট ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। সেখানে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে এক ঘণ্টার বিশেষ সেশন পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া ২৮৮ জন শিক্ষক ও কমিউনিটি স্টেকহোল্ডারের জন্য ৮টি পৃথক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিলেটে কর্মশালা হয়েছে। আগামী ৩ থেকে ৫ মে যশোর ও ঝিনাইদহে আরও কর্মশালা হবে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ‘ফোকাল পারসন’ হিসেবে কাজ করবেন এবং শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করবেন।

সমীক্ষায় যেসব শর্ত মানতে হবে

মাউশি জানিয়েছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত না করে সচেতনতামূলক সেশন ও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

কার্যক্রম চলাকালে জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনার পরিপন্থি কোনো কাজ বা প্রচারণা চালানো যাবে না।

সংগৃহীত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং শেষে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন মাউশিতে জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্রও তৈরি করা হবে।

মাউশির সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মিনহাজউদ্দীন আহমদ বলেন, “পারিবারিক কলহের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিংয়ের শিকার হওয়া কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার অন্যতম বড় কারণ।”

তিনি জানান, শিক্ষকদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের একাকীত্ব বা অস্বাভাবিক আচরণ শনাক্ত করে যথাযথ কাউন্সেলিং করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ দেশের শিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা রোধে সরকারের সমীক্ষা উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ পাবেন ২০ হাজার শিক্ষার্থী

কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা রোধে সমীক্ষার উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ পাবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

Update Time : ০৬:০৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ঢাকা, ১ মে, ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট): দেশে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে এবং তাদের মানসিক ও আবেগীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সমীক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর তত্ত্বাবধানে বেসরকারি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’ এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়নে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কারিগরি নির্দেশনায় পরিচালিত ‘লাইভ লাইফ’ কর্মসূচির আওতায় যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ—এই চার জেলায় প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মাউশি জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহ সদর ও শৈলকুপা, যশোর সদর ও ঝিকরগাছা এবং সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলার নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সমীক্ষা চালানো হবে। এতে সফলতা পেলে বাস্তবতা বিবেচনায় কর্মসূচির পরিসর বাড়ানো হবে।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা প্রবণতার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।”

তিনি আরও বলেন, “এই সমীক্ষার মাধ্যমে আমরা একটি বৈজ্ঞানিক উপাত্তভিত্তিক সমাধান খুঁজছি, যা ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি স্থায়ী মডেল হিসেবে কাজ করবে।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কর্মসূচির আওতায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে সরাসরি সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আত্মহত্যার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র তৈরি করা হবে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, “অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের মানসিক অস্থিরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে এটি দেশজুড়ে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০ হাজার শিক্ষার্থী ও ২৮৮ শিক্ষক পাবেন প্রশিক্ষণ

মাউশি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে নির্বাচিত চার জেলার ২০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ জন করে মোট ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। সেখানে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে এক ঘণ্টার বিশেষ সেশন পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া ২৮৮ জন শিক্ষক ও কমিউনিটি স্টেকহোল্ডারের জন্য ৮টি পৃথক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিলেটে কর্মশালা হয়েছে। আগামী ৩ থেকে ৫ মে যশোর ও ঝিনাইদহে আরও কর্মশালা হবে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ‘ফোকাল পারসন’ হিসেবে কাজ করবেন এবং শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করবেন।

সমীক্ষায় যেসব শর্ত মানতে হবে

মাউশি জানিয়েছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত না করে সচেতনতামূলক সেশন ও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

কার্যক্রম চলাকালে জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনার পরিপন্থি কোনো কাজ বা প্রচারণা চালানো যাবে না।

সংগৃহীত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং শেষে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন মাউশিতে জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্রও তৈরি করা হবে।

মাউশির সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মিনহাজউদ্দীন আহমদ বলেন, “পারিবারিক কলহের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিংয়ের শিকার হওয়া কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার অন্যতম বড় কারণ।”

তিনি জানান, শিক্ষকদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের একাকীত্ব বা অস্বাভাবিক আচরণ শনাক্ত করে যথাযথ কাউন্সেলিং করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ দেশের শিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।