Magura ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় ছেলেকে হত্যার পর এবার বাবার উপর হামলা—মাগুরায় বিএনপি নেতা রক্তাক্ত

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 32

ডেস্ক রিপোর্ট:
মাগুরায় ছেলেকে হত্যার কয়েক বছর পর এবার তার বাবার ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আকবর হোসেন (৬০) কে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে মাগুরা-নড়াইল মহাসড়কের ভাংগুড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকবর হোসেন বিকেলে গঙ্গারামপুর বাজার থেকে পলিতা বাজারে ফিরছিলেন। পথে ভাংগুড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শুভঙ্কর রায় বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তে কাজ চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে আকবর হোসেনের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪২) কয়েক বছর আগে পলিতা বাজারে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে শরিফুল ইসলাম একটি সেলুনে বসে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে। ওই ঘটনার পেছনেও স্থানীয় বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার দায়ী ছিল বলে ধারণা করা হয়।
মাগুরা সদর দক্ষিণ ইউনিটি (কুচিয়ামোড়া, বেরইল পলিতা, গোপালগ্রাম ও শত্রুজিৎপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত) বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ শামিম বলেন, ২০১৯ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রতিপক্ষের লোকজনই বর্তমান হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, বেরইল পলিতা ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বার রাজা গাজী ও সাবেক মেম্বার আকবর হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধের জের ধরেই এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বর্তমান মেম্বার রাজা গাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মাগুরায় ছেলেকে হত্যার পর এবার বাবার উপর হামলা—মাগুরায় বিএনপি নেতা রক্তাক্ত

Update Time : ০৫:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট:
মাগুরায় ছেলেকে হত্যার কয়েক বছর পর এবার তার বাবার ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আকবর হোসেন (৬০) কে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে মাগুরা-নড়াইল মহাসড়কের ভাংগুড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকবর হোসেন বিকেলে গঙ্গারামপুর বাজার থেকে পলিতা বাজারে ফিরছিলেন। পথে ভাংগুড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শুভঙ্কর রায় বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তে কাজ চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে আকবর হোসেনের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪২) কয়েক বছর আগে পলিতা বাজারে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে শরিফুল ইসলাম একটি সেলুনে বসে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে। ওই ঘটনার পেছনেও স্থানীয় বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তার দায়ী ছিল বলে ধারণা করা হয়।
মাগুরা সদর দক্ষিণ ইউনিটি (কুচিয়ামোড়া, বেরইল পলিতা, গোপালগ্রাম ও শত্রুজিৎপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত) বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ শামিম বলেন, ২০১৯ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রতিপক্ষের লোকজনই বর্তমান হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, বেরইল পলিতা ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বার রাজা গাজী ও সাবেক মেম্বার আকবর হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধের জের ধরেই এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বর্তমান মেম্বার রাজা গাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।