মেটার ২০০ কোটি ডলারের Manus অধিগ্রহণ আটকাল চীন, প্রযুক্তি যুদ্ধে নতুন উত্তেজনা
মেটার ২০০ কোটি ডলারের এআই চুক্তিতে বাধা, মার্কিন বিনিয়োগে কড়াকড়ি চীনের
- Update Time : ০৬:৩১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / 21
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের এক চুক্তিতে বাধা দিয়েছে চীন। এআই স্টার্টআপ ‘মানুস’ (Manus)-কে ২০০ কোটি ডলারে অধিগ্রহণের মেটার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে, যা প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা গত ডিসেম্বরে এআই এজেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Manus কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সোমবার চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) এই চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে Manus অধিগ্রহণ অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে লেনদেন প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে বলা হয়েছে।
মার্কিন বিনিয়োগে নতুন কড়াকড়ি
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন থেকে শীর্ষ প্রযুক্তি ও এআই স্টার্টআপগুলোতে সরকারি অনুমতি ছাড়া মার্কিন বিনিয়োগ গ্রহণ সীমিত করতে চায়।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তহবিল না নেয়।
Manus কেন গুরুত্বপূর্ণ
বেইজিংয়ে যাত্রা শুরু করা Manus বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা এআই এজেন্ট প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে, যা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নানা কাজ করতে পারে।
যেমন—ভ্রমণ পরিকল্পনা করা, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, গবেষণাপত্র প্রস্তুত করা ইত্যাদি। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতকে ভবিষ্যতের শ্রম সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে দেখছে।
মেটার বড় পরিকল্পনা
মেটা সম্প্রতি এআই বিভাগে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে তারা কোটি কোটি মানুষের কাছে উন্নত এআই প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে চায়।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা তীব্র
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিশ্ব নেতৃত্ব নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বিশ্বের শীর্ষ এআই মডেলগুলোর বড় অংশই এই দুই দেশের প্রতিষ্ঠানের তৈরি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে দাবি করেছিলেন, এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের চলমান প্রযুক্তি যুদ্ধকে আরও তীব্র করতে পারে। একই সঙ্গে চীনা এআই কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক সম্প্রসারণেও নতুন বাধা তৈরি হতে পারে।










