মেহেরপুরে ৫৫ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা, চাষিদের চোখে স্বপ্ন
- Update Time : ০৫:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 14
মেহেরপুর, ৩ মে ২০২৬ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট): লিচু বাগানগুলোতে এখন শুধু ফল নয়, ঝুলছে চাষিদের স্বপ্নও। কখন সেই টকটকে লাল লিচু বাজারে উঠবে, আর তার সঙ্গে মিলবে বছরের পরিশ্রমের দাম—সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন কৃষকরা।
মেহেরপুরের রসালো ও সুস্বাদু লিচুর চাহিদা দেশজুড়ে থাকায় এবারও বড় বাণিজ্যের আশা করা হচ্ছে। বাজারদর অনুকূলে থাকলে ৫৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হতে পারে বলে মনে করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৭১৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে উৎপাদন হয় ৬ হাজার ১১০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ছিল ৫০ কোটির বেশি। চলতি বছর আবাদ বেড়ে প্রায় ৮০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।
মেহেরপুরের লিচু দীর্ঘদিন ধরেই স্বাদ ও মানের কারণে পরিচিত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় এই ফল।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় মোজাফফর জাতের লিচুর বাগান বেশি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বোম্বাই জাতের লিচু চাষও দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতেও আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
সদর উপজেলার লিচু চাষি আব্দুল মালেক বলেন,
“এবার গাছে গাছে ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবং বাজারদর ভালো পেলে আমরা লাভবান হবো।”
আরেক চাষি রহিম উদ্দিন জানান, গত কয়েক বছরে লাভ হওয়ায় অনেকে নতুন বাগান করছেন। তবে কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।
লিচু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে মেহেরপুরের লিচুর চাহিদা বেশি। মৌসুম শুরু হলে পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সনজীব মৃধা বলেন,
“এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে রোগবালাই কম হয় এবং ফলের মান বজায় থাকে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষাবাদ ও উন্নত বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে মেহেরপুরের লিচু খাত আরও বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।










