বন্ধ্যা পুরুষদের বাবা হওয়ার নতুন আশা, এআই প্রযুক্তিতে মিলছে সফলতা
বন্ধ্যা পুরুষদের বাবা হওয়ার নতুন দিগন্ত, আশার আলো দেখাচ্ছে এআই প্রযুক্তি
- Update Time : ০৬:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
- / 17
দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে মা হওয়ার সুখবর পেয়েছেন পেনেলোপি। তবে এই যাত্রা সহজ ছিল না। তার স্বামী স্যামুয়েল আক্রান্ত ছিলেন ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোমে, যেখানে শরীরে অতিরিক্ত একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকার কারণে শুক্রাণুর পরিমাণ প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া। সাধারণত অনেক বন্ধ্যা পুরুষ এই সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, স্যামুয়েলের বাবা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু নতুন এক এআই প্রযুক্তি সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে তুলেছে।
কী এই ‘স্টার’ প্রযুক্তি?
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ফার্টিলিটি সেন্টার-এর গবেষক দল তৈরি করেছে STAR নামের একটি বিশেষ প্রযুক্তি। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বীর্যের নমুনার ভেতর লুকিয়ে থাকা একটি মাত্র সুস্থ শুক্রাণুও শনাক্ত করতে পারে।
গবেষকদের মতে, আকাশে নতুন নক্ষত্র খোঁজার যে প্রযুক্তি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেন, সেই ধারণা থেকেই এ সিস্টেম তৈরি হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে?
এই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয় মাইক্রোফ্লুইড চিপ, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০০টি ছবি বিশ্লেষণ করতে পারে। মানুষের চোখে যেখানে শুক্রাণু দেখা যায় না, সেখানে এআই অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটি মানুষের তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ দ্রুত কাজ করতে পারে।
সাফল্যের হার কত?
সাম্প্রতিক পরীক্ষায় ১৭৫ জন রোগীর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুক্রাণু শনাক্ত করা গেছে, যাদের আগে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলা হয়েছিল।
স্যামুয়েলের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। ল্যাব বিশেষজ্ঞরা কিছু না পেলেও STAR প্রযুক্তি সেখান থেকে ৮টি শুক্রাণু খুঁজে বের করে। পরে সেই শুক্রাণু ব্যবহার করে সফলভাবে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। বর্তমানে পেনেলোপি অন্তঃসত্ত্বা।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিটি আশাব্যঞ্জক হলেও আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন। পাশাপাশি রোগীর তথ্য সুরক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন আশার নাম এআই
বন্ধ্যাত্বে ভোগা বহু দম্পতির জন্য এই প্রযুক্তি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার দরজা। যারা দীর্ঘদিন সন্তানহীনতার কষ্টে ছিলেন, তাদের কাছে এটি এখন আশার আলো হয়ে উঠছে।
সূত্র: বিবিসি










